হিন্দুধর্মে ধর্ষণ: গুরুতর পাপ ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
নিজস্ব প্রতিবেদক,
হিন্দুধর্মে ধর্ষণকে শুধু সামাজিক অপরাধ নয়, বরং গুরুতর পাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ধর্মীয় গ্রন্থ ও শাস্ত্র অনুযায়ী, নারীর সম্মান রক্ষা করা ধর্মীয় দায়িত্ব এবং তার প্রতি জোরপূর্বক আচরণ কঠোরভাবে নিন্দিত।
প্রাচীন ধর্মশাস্ত্র মনুস্মৃতি-তে নারীর প্রতি অবমাননা, শ্লীলতাহানি বা জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ককে গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, নারীর সম্মতি ছাড়া তাকে স্পর্শ বা ভোগ করা অপরাধ এবং এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে নারীর মর্যাদা রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য ধর্মশাস্ত্রেও নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন সম্পর্ককে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী জরিমানা, সামাজিক শাস্তি এমনকি শারীরিক দণ্ডের কথাও উল্লেখ রয়েছে। এতে স্পষ্ট হয় যে, প্রাচীনকাল থেকেই জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ককে বৈধ বা গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা হয়নি।
হিন্দুধর্মে নারীকে সম্মানিত অবস্থানে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে বিশ্বাস করা হয়, যেখানে নারীর সম্মান রক্ষা করা হয়, সেখানে কল্যাণ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে। তাই নারীর প্রতি সহিংসতা বা অবমাননা ধর্মীয় নীতির পরিপন্থী।
হিন্দু ধর্মগ্রন্থের মহাকাব্যেও নারীর প্রতি অন্যায়ের ভয়াবহ পরিণতির উদাহরণ পাওয়া যায়।
মহাভারত-এ দ্রৌপদীর অপমানকে কেন্দ্র করে কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা এক বৃহৎ ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করে।
রামায়ণ-এ সীতাহরণের ঘটনা শেষ পর্যন্ত রাবণের পতন ডেকে আনে। এসব উদাহরণে নারীর প্রতি অন্যায়কে গুরুতর অধর্ম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মহাভারত-এ দ্রৌপদীর অপমানকে কেন্দ্র করে কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা এক বৃহৎ ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করে।
রামায়ণ-এ সীতাহরণের ঘটনা শেষ পর্যন্ত রাবণের পতন ডেকে আনে। এসব উদাহরণে নারীর প্রতি অন্যায়কে গুরুতর অধর্ম হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ধর্মীয় শিক্ষায় মানুষের কামনা-বাসনা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন কামনা মানুষকে পাপের পথে পরিচালিত করে এবং এর ফল ভোগ করতে হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। কর্মফলের ধারণা অনুযায়ী, অন্যায় কাজের প্রতিফল অনিবার্য এবং তা বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ জীবনে ভোগ করতে হয়।
সার্বিকভাবে, হিন্দুধর্মে ধর্ষণ বা নারীর প্রতি জোরপূর্বক আচরণকে কোনোভাবেই সমর্থন করা হয়নি। বরং এটিকে গুরুতর পাপ, অধর্ম এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুযায়ী, নারীর সম্মান রক্ষা করা সমাজ ও ব্যক্তির নৈতিক দায়িত্ব।



%20.png)
No comments: