Top Ad unit 728 × 90

আপনার বিজ্ঞাপনটি দিতে ইমেইল করুন - whtnews2015@gmail.com

শিরোনাম

{getPosts} $results={6} $label={recent}

হিমালয়ের কোলে শিবধামের মহিমা: হাজার বছরের ইতিহাস বহন করছে কেদারনাথ মন্দির





নিজস্ব প্রতিবেদক
আর্ন্তজাতিক ডেস্ক


হিমালয়ের কোলে শিবধামের মহিমা: হাজার বছরের ইতিহাস বহন করছে কেদারনাথ মন্দির

ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রুদ্রপ্রয়াগ জেলায়, হিমালয়ের সুউচ্চ শৃঙ্গের মাঝে মন্দাকিনী নদীর তীরে অবস্থিত কেদারনাথ মন্দির হিন্দুধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫৮৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই মন্দিরটি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের একটি এবং উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত চার ধাম ও পঞ্চ কেদারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাম হিসেবে পরিচিত।

পৌরাণিক ইতিহাস ও বিশ্বাস

মহাভারতের কাহিনি অনুসারে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের পর পাণ্ডবরা নিজেদের ভাই হত্যার পাপ থেকে মুক্তি পেতে ভগবান শিবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। কিন্তু শিব তাঁদের এড়িয়ে যেতে কেদারখণ্ডে এসে মহিষের রূপ ধারণ করেন। ভীম সেই মহিষকে চিনে ধরে ফেললে শিব মাটির নিচে বিলীন হয়ে যান এবং কেবল তাঁর পিঠের কুঁজটি ভূপৃষ্ঠে রয়ে যায়। সেই স্থানেই পাণ্ডবরা শিবের পূজা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে সেখানে মন্দির নির্মাণ করেন—যা আজ কেদারনাথ মন্দির হিসেবে পরিচিত।

আদি শংকরাচার্যের অবদান

ধর্মতত্ত্ববিদদের মতে, বর্তমান কেদারনাথ মন্দিরটি অষ্টম শতাব্দীতে আদি শংকরাচার্য পুনর্নির্মাণ করেন। যদিও বিশ্বাস করা হয়, পাণ্ডবদের স্থাপিত আদি মন্দিরটি ছিল আরও প্রাচীন। শংকরাচার্য হিন্দুধর্মকে সংগঠিত করার পাশাপাশি এই তীর্থস্থানকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

নামের তাৎপর্য

‘কেদারনাথ’ শব্দের অর্থ ‘কেদার বা ক্ষেত্রের প্রভু’। প্রাচীন কালে এই অঞ্চল ‘কেদারখণ্ড’ নামে পরিচিত ছিল, যা থেকেই মন্দিরটির নামকরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়।

ঋতুভিত্তিক পূজা ও যাত্রা

তীব্র শীত ও প্রবল তুষারপাতের কারণে কেদারনাথ মন্দির প্রতি বছর এপ্রিলের শেষ দিক থেকে কার্তিক পূর্ণিমা পর্যন্ত খোলা থাকে। শীতকালে প্রায় ছয় মাসের জন্য মন্দির বন্ধ থাকে এবং তখন শিবলিঙ্গ উখিমঠে নিয়ে গিয়ে নিয়মিত পূজা করা হয়।

২০১৩ সালের বন্যা ও অলৌকিক রক্ষা

২০১৩ সালের বিধ্বংসী বন্যায় কেদারনাথ উপত্যকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, অলৌকিকভাবে কেদারনাথ মন্দির প্রায় অক্ষত থাকে। এই ঘটনা বহু ভক্তের কাছে শিবের কৃপা ও মন্দিরের অলৌকিক শক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

যাতায়াত ও অবস্থান

কেদারনাথ ঋষিকেশ থেকে প্রায় ২২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গৌরীকুন্ড থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ ট্রেক করে এই পবিত্র ধামে পৌঁছাতে হয়।

হাজার বছরের ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও গভীর আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে ঘেরা কেদারনাথ মন্দির শুধু একটি দর্শনীয় স্থান নয়—এটি হিন্দুধর্মের এক জাগ্রত ও চিরন্তন তীর্থভূমি, যেখানে ভক্তরা আজও ভগবান শিবের আশীর্বাদ লাভের আশায় ছুটে আসেন।

No comments:

অননুমোদিতভাবে কোনও বিষয়বস্তু অনুলিপি করা বা ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ World Hindu Times All Right Reseved |

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.