শ্রীমদ্ভগবদগীতা শপথ নিয়ে আলোচনায় কেনিয়ার তরুণ নেতা কেলি ক্যালেব
নিজস্ব প্রতিবেদক,
কেনিয়ার মোম্বাসা কাউন্টিতে অনুষ্ঠিত এক আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক তরুণ রাজনৈতিক নেতার ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মোম্বাসা কাউন্টি অ্যাসেম্বলিতে অনুষ্ঠিত মোম্বাসা যুব অ্যাসেম্বলির অধিবেশনে চাঙ্গামওয়ে নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধি কেলি ক্যালেব ভগবদগীতার ওপর শপথ গ্রহণ করেন।
সাধারণত রাষ্ট্রীয় বা সরকারি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রচলিত ধর্মীয় গ্রন্থ ব্যবহারের রীতি থাকলেও, ক্যালেবের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই কেনিয়ার সাংবিধানিক বহুত্ববাদ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। ইসকন গঞ্জোনির প্রচার নেতা ওমকারা মুকুন্দ দাস বলেন, “এটি কোনো প্রচারণামূলক পদক্ষেপ নয়, বরং সচেতন ও বিশ্বাসভিত্তিক সিদ্ধান্ত।”
মোম্বাসা যুব অ্যাসেম্বলি কেনিয়ার যুব অ্যাসেম্বলির একটি অংশ, যেখানে তরুণ নেতৃত্বকে ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য প্রস্তুত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির তরুণদের মধ্যে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আগ্রহ বাড়ছে—এই প্রেক্ষাপটে ক্যালেবের শপথ গ্রহণ নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্যক্তিগত জীবনে কেলি ক্যালেব মোম্বাসার গঞ্জোনিতে অবস্থিত হরে কৃষ্ণ কমিউনিটি সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত একজন ভক্ত। তিনি ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত “দ্য বেটার ইউ ক্লাব”-এর সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষ্ণব সংস্কৃতি প্রচারে ভূমিকা রাখছেন। বর্তমানে ক্লাবটির সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৮০ জন।
ওমকারা মুকুন্দ দাসের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশে নতুন ধর্মীয় চিন্তা বা আধ্যাত্মিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করা সহজ নয়। তবুও নিয়মিত গীতা অধ্যয়ন, সাপ্তাহিক সভা এবং কমিউনিটি কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সক্রিয় সামাজিক পরিসর তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “একজন তরুণ নেতা যখন নিজের বিশ্বাসকে গোপন না রেখে প্রকাশ্যে তুলে ধরেন, তখন তা তার ব্যক্তিত্বের স্বচ্ছতা ও দৃঢ়তার প্রতিফলন।” ক্যালেবের এই পদক্ষেপকে তিনি বিশ্বাস ও নাগরিক দায়িত্বের সমন্বয়ের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা কেনিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে সংঘাতের উৎস হিসেবে না দেখে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও জনসেবার সমন্বয় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
এদিকে, কেনিয়ায় প্রতি বছর আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবে হরে কৃষ্ণ ভক্তদের জনসমাগম দীর্ঘদিন ধরেই দৃশ্যমান। তবে ক্যালেবের এই শপথ গ্রহণকে অনেকে বৈষ্ণব সংস্কৃতির আরও গভীর সামাজিক ও নেতৃত্ব পর্যায়ে প্রবেশের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আফ্রিকার জনজীবনে ধর্মীয় বহুত্ববাদ ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের স্বীকৃতি আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখতে পারে।




%20.png)
No comments: